চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণে সমাধানজাবি প্রতিনিধি

 চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণে সমাধানজাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬




জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ‘ঠিকানা পরিবহন’-এর ছয়টি বাস প্রায় ১৬ ঘণ্টা আটকে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তে বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও বাস মালিকপক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার পর উভয় পক্ষ এই সমঝোতায় পৌঁছায়। আহত শিক্ষার্থীর নাম আল মামুন, তিনি সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা ঠিকানা পরিবহনের ছয়টি বাস আটক করে রাখে। পরবর্তীতে আলোচনার ভিত্তিতে বাস কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা ব্যয় ও অন্যান্য খরচ বাবদ মোট ২৫ হাজার টাকা প্রদান করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী আল মামুন জানান, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশমাইল এলাকা থেকে তিনি একটি বাসে ওঠেন। ডেইরি গেটে নামার সময় বাসের এক হেলপার তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাসে না তোলার কথা বলে। এক পর্যায়ে অন্য এক হেলপার তাকে চলন্ত অবস্থায় বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে তার হাঁটু, হাত ও মাথায় আঘাত লাগে।

ঠিকানা পরিবহনের ম্যানেজার মো. কবির হোসাইন এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, বাস মালিকপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করার আশ্বাস দিয়েছে। ক্ষতিপূরণের ২৫ হাজার টাকার মধ্যে চিকিৎসা বাবদ ১২ হাজার এবং এক মাসের জীবিকা ব্যয়ের জন্য ১৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী পরিবহনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ ধরনের ঘটনার স্থায়ী সমাধান বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ