হাদী হত্যা মামলা: প্রধান আসামি ফয়সালসহ দুই সহযোগী আদালতে হাজির
২২ মার্চ, ২০২৬
![]() |
বাংলাদেশের আলোচিত ছাত্র নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে আজ পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে। ১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ড শেষে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (STF) তাদের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে পেশ করে।
আদালতের কার্যক্রম ও রিমান্ড
আদালতে শুনানির সময় তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, গত ৮ মার্চ উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফয়সাল ও আলমগীর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
জেল হাজত: আদালত তাদের আবেদন বিবেচনা করে ফয়সাল ও আলমগীরকে ১২ দিনের জন্য জেল হাজতে (কারা হেফাজত) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২ এপ্রিল তাদের পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে।
এনআইএ (NIA) জিজ্ঞাসাবাদ: আদালত উল্লেখ করেছেন যে, কারাগারে থাকাকালীন ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) প্রয়োজনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।
আসামিদের বক্তব্য ও অস্বীকার
আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা ফয়সালকে হাদী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নিজের দোষ অস্বীকার করেন। ফয়সাল দাবি করেন:
"আমি হাদী হত্যার সঙ্গে জড়িত নই, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। কোথাও দেখাতে পারবেন না আমি হাদিকে সরাসরি গুলি করেছি।"
পালিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ফয়সাল কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তারা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আত্মগোপন করেছিলেন এবং পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও গ্রেফতারি
উল্লেখ্য যে, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
অন্যান্য গ্রেফতার: এই মামলায় ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমা নামে আরও এক ব্যক্তিকে নদীয়া জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চার্জশিট: গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছিল, যেখানে ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান ‘শুটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেই এই দুই আসামিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানানো হয়েছে। দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের হস্তান্তরের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ